৩১ ডিসেম্বর ২০২০(বিবিনিউজ):সাভারের হেমায়েতপুর থেকে পাঁচ মাসের শিশু হাবিবা আক্তারকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানীর শাহ আলীর ঝিলপাড় বস্তি থেকে অপহরণের এক দিন পর বুধবার শিশুটিকে উদ্ধার হলো। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমাইয়া আক্তার ওরফে মালাকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকার দারুস সালাম থানার পুলিশ জানায়, পাঁচ মাসের হাবিবা ও আট বছরের আয়েশা আক্তারকে নিয়ে তাদের মা-বাবা মিরপুর ঝিলপাড় বস্তিতে থাকেন। গতকাল মঙ্গলবার দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওই অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা আফরোজকে ফোন করে জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’–এ ফোন করে জানানো হয়েছে, দারুস সালাম টেকনিক্যাল মোড়ে একটি শিশু কাঁদছে। মাহমুদা আফরোজ ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নারত শিশু আয়েশার (৮) কাছ থেকে জানতে পারেন, এক নারী তাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে পাশের একটি দোকান নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে চিপস কিনে দেন। পরে তাকে খেলনা ও ফুল কিনে দেওয়ার কথা বলে আরও দূরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে আয়েশার কোল থেকে শিশু হাবিবাকে তাঁর কোলে নিয়ে নেন। একসময় আয়েশাকে রেখে হাবিবাকে নিয়ে ওই নারী চম্পট দেন।
এডিসি মাহমুদা আফরোজ বলেন, শিশু আয়েশাকে নিয়ে পুলিশ শাহ আলী ঝিলপাড় বস্তিতে তাদের বাসা খুঁজে বের করে। তখন শিশুদের বাবা দাদন মিয়া ও তার মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। দাদন মিয়া রিকশাচালক। তিনি দাদন মিয়াকে দারুস সালাম থানায় অপহরণের মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর দাদন মিয়া দারুস সালাম থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন। এদিকে দারুস সালাম থানার এক পুলিশ সদস্য ফেসবুকে শিশু হাবিবাকে অপহরণের তথ্য পোস্ট করেন এবং তাঁর মুঠোফোন নম্বর দেন। সেই পোস্ট দেখে সাভারের ফুলবাড়িয়ার এক বাসিন্দা ফোন করে ওই পুলিশ সদস্যকে একটি শিশুর বিষয়ে তথ্য দেন। আজ দারুস সালাম থানার পুলিশ সাভারের ফুলবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশু হাবিবাকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারী অভিযোগে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে। শিশু হাবিবা তার মা–বাবার কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী মুদিদোকানি। বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় সুমাইয়া বিষণ্নতায় ভুগছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদা আফরোজ জানান, অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তারের পর সুমাইয়াকে আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
